দীর্ঘ কয়েক বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাইরে থাকার পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তবে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার আগেই দলটিকে বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। কোথাও কোথাও এ সংখ্যা ৭ থেকে ১২ জন পর্যন্ত।
ফলে নির্বাচনের আগে নিজেদের দলের একাধিক প্রার্থীকে সামলে একজনকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়াই বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, একটি ইউনিয়নে একাধিক দলীয় প্রার্থীকে মাঠে রাখা হবে না। জনপ্রিয়তা, সততা, দলের প্রতি আনুগত্য, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বিবেচনায় একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে তৃণমূলে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা একাধিক নেতার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার পর বাকিদের কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। কারণ সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় সবাই নিজেদের দলের দুঃসময়ের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দাবি করছেন।
বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেয়নি বিএনপি। দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকার কারণে এবার ইউপি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা ইতোমধ্যে এলাকায় গণসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের আশঙ্কা, একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ভোট ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘস্থায়ী কোন্দল তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব দলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপরও পড়তে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে ৯ ইউনিয়নে ৫৬৭ ফরম
একাধিক প্রার্থীর চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম থানা বিএনপির অধীন ৯টি ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে মোট ৫৬৭ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ থেকে ১২ জন বিএনপি নেতা ফরম নিয়েছেন। ২ নম্বর দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আটজন এবং ৪ নম্বর চররুহিতা ইউনিয়নে ১২ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সদস্য পদেও প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০ থেকে ১৫ জন করে প্রার্থী ফরম নিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে ফরম বিতরণ করা হয়েছে। ফরম জমা দেওয়ার পর প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও স্থানীয় কর্মকাণ্ড যাচাই করা হবে। মাঠপর্যায়ের তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত একজনকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে।
সদর থানা পশ্চিম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দ







