আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলীয় নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে রাজনীতির মাঠে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত, সজীব ওয়াজেদ জয়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে নতুন কাণ্ডারি হিসেবে সামনে আনার আলোচনা তৃণমূল কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
দলের একটি বড় অংশের ঝোঁক সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকে থাকলেও, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম উঠে আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদেশি নাগরিকত্ব এবং আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে জয় সুকৌশলে দূরত্ব বজায় রাখছেন, অন্যদিকে কৌশলগত কারণে ভারতের কাছে শেখ সেলিমের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে এক পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দলটির অন্দরমহলে এক অদৃশ্য দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ভারত থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তাঁর সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যকে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেশ ছাড়ার সময়কার তথ্য ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে জীবনের নিরাপত্তার অজুহাত তৈরি করাকে কর্মীরা কেবল সময় ক্ষেপণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের এই অসংলগ্ন বক্তব্যে দেশে অবস্থানরত মাঠপর্যায়ের কর্মীরা আরও বেশি দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
অন্যদিকে, বিদেশে অবস্থানরত দলটির একশ্রেণির নেতা জুম ও সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিলেও, বাস্তবে মামলার মুখোমুখি হওয়া তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের কোনো সংযোগ নেই। লন্ডনে বা নিউইয়র্কে আরামদায়ক সুবিধায় বসে বিদেশে থাকা নেতাদের এই হুংকার ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের রাজনৈতিক ঝুঁকিতে ফেলার নীতি দলের অভ্যন্তরেই অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে, যা সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে বের হওয়া ঝটিকা মিছিল ও উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে শেখ হাসিনাকে বন্দি বিনিময় চুক্তির বাইরে রাজকীয়ভাবে দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। ফলে কোনো নির্দিষ্ট নীতি, আদর্শ কিংবা রোডম্যাপ ছাড়া কেবল নেতৃত্ব টানাপোড়েনের ওপর ভর করে টিকে থাকা দলটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।







