‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মাধ্যমে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান সমগ্র ইসলামি বিশ্বের কাছে একটি নতুন বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় সামসুন প্রদেশে তরুণদের এক আয়োজনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই ত্রিপক্ষীয় সামরিক কৌশল ও চুক্তির অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, গত মাসে স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ইতিবাচক অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং এটি ইসলামি বিশ্বের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই একতাবদ্ধ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো যৌথ শক্তির প্রদর্শন ও মুসলিম জাহানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া। তাঁরা এই প্রক্রিয়ায় সফল হবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বক্তব্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনা করে এরদোয়ান তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘বিশ্ব পাঁচ দেশের চেয়েও বড়’ স্মরণ করিয়ে দেন। জাতিসংঘের কাঠামোগত বৈষম্য দূর করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সংস্কারের জোর তাগিদ জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, বিশ্বমঞ্চে আরও একটি ন্যায়সংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে তুরস্ক ধারাবাহিকভাবে কথা বলে যাবে।
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে এরদোয়ান বলেন, ইসলামি বিশ্ব বর্তমানে একাধিক জটিল ও গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের ঘটনা প্রবাহকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তুরস্ক এই সমস্ত অঞ্চলের উন্নয়ন ও অস্থিরতার ওপর কড়া নজর রাখছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও সংকটগুলো যত দ্রুত সম্ভব কাটিয়ে ওঠা জরুরি। এই সংকটময় মুহূর্তে তুরস্ক সর্বদা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। বিশ্বব্যাপী মুসলিম দেশগুলোর তুরস্কের ওপর যে বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।







