ভারতের আসামের গোয়ালপাড়ায় ৭৩টি মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে গৌহাটি হাইকোর্ট। আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কৃষিজমিতে নির্মিত এসব বাড়ি ভাঙার প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অননুমোদিত এবং বাসিন্দাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ায় স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া জেলা প্রশাসন ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও ভূমি রাজস্ব বিধানের দোহাই দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অথচ এর মাত্র দুদিন আগে, অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর বাসিন্দাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ কিংবা আইনি আপিলের সুযোগ না পেয়ে ২১ জন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি দেবাশিস বড়ুয়ার বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত জমিতে বাড়ি ভেঙে ফেলার মতো অতি-জরুরি কী ধরনের ‘আসন্ন বিপদ’ তৈরি হয়েছিল যার কারণে মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশ দিতে হলো। নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত জানায়, উচ্ছেদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।
আসামের ২০১৫ সালের কৃষিজমি আইনের কথা উল্লেখ করে আদালত জানায়, এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমিতে নিজস্ব বসবাসের জন্য দুই তলা বাড়ি নির্মাণে পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসারকে পৃথক হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জমা দেওয়ার সুযোগসহ মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৩ অক্টোবর ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।





