পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের নলদাহ গ্রামে গণি নামের এক স্থানীয় জামায়াত কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের তির ভাড়ারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খানের দিকে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অভিযোগ আছে, গত ৪ আগস্ট পাবনা শহরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার প্রধান কারিগর ছিলেন এই সাঈদ চেয়ারম্যান। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর শহরের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও এতদিন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক শেল্টার ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা থেকে বর্তমানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকারী হাবিবুর রহমান হাবিবের পৃষ্ঠপোষকতায় সাঈদ চেয়ারম্যান পুনরায় পাবনার স্থানীয় রাজনীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পুনর্বাসিত হন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতার এমন আশ্রয় ও সুরক্ষার কারণেই তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং নতুন করে এই জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
নলদাহ ও ভাড়ারা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জোড়া ছাত্র হত্যার আসামিকে দলীয় কোন্দল ও নিজস্ব স্বার্থে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব আশ্রয় দিয়ে আসছিলেন। সাঈদ চেয়ারম্যানের আশ্রয়ে থাকা ও জামায়াত কর্মী গণিকে হত্যার ঘটনায় অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্তের পাশাপাশি তাঁর পৃষ্ঠপোষক বিএনপি নেতার ভূমিকাও আইনি তদন্তের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
প্রকাশ্যে দিনের বেলায় জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার খবরের পর এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।







