ভারত-পাকিস্তানের চিরবৈরী সম্পর্কের মধ্যে নতুন এক আন্তর্জাতিক জলঘোলা তৈরি হয়েছে। কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসাকে ‘ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত’ দাবি করেছিল নতুন দিল্লি। তবে ভারতের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে হাশিম মূসাকে খোদ সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে ‘জীবিত ও সুস্থ’ হাজির করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় মিডিয়া ও সরকারের দাবিকে উপহাস করে ওড়ান। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোরাগ এলাকায় এনকাউন্টারে যাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি তুলেছিল, সেই হাশিম মূসাকে সাংবাদিকের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে একে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সাজানো ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বলে তোপ দাগেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান আইএসপিআর মহাপরিচালক ভারতের চিন্নার কোর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধান প্রধান সংবাদ মাধ্যমগুলোর গত কয়েক দিনের দাবির বিস্তারিত সময়রেখা তুলে ধরেন। ভারতের দাবি ছিল, লস্কর-ই-তৈয়বার জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও সাবেক এসএসজি কমান্ডো মূসাকে দীর্ঘ মেয়াদী ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’র মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনা মুখপাত্র ভারতীয় বাহিনীর প্রকাশিত পোস্ট ও সংবাদের স্ক্রিনশট দেখিয়ে রসাত্মক ভঙ্গিতে একে “লজ্জাজনক অপপ্রচার” বলে অ্যাখ্যা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাবেক সেনাসদস্য মোহাম্মদ আসিফ প্রকাশ করেন তাঁর জ্যান্ত হাজির হওয়ার অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, ভারতীয় বাহিনী তাঁকে কাশ্মীরের অভিযানে ‘শহীদ’ ঘোষণা করার সময় তিনি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত নম্বর শনাক্ত করে ভারতীয় কিছু মাধ্যম থেকে ফোন করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নিজের পরিচয় নিশ্চিত করে আসিফ জানান, ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর এসএসজি কমান্ডো হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালে স্বাভাবিক অবসরে যাওয়ার পর বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে বসবাস করছেন। ভারতের এমন অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও অসম্মানজনক’ দাবি করে আসিফ বলেন, পাকিস্তান আড়াল থেকে নয়, যা করার সামনাসামনিই জবাব দেয়।







