অন্যায়, অসত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সফল হতে আদর্শিক জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দলের রোকনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।
শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা নগরীর আইটি কনভেনশন হলে জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রোকনদের নিয়ে আয়োজিত এক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দক্ষ, সৎ, জ্ঞানী, যোগ্য ও আদর্শিক কর্মী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, ইমানি শক্তিতে বলীয়ান জনশক্তিকে কোনো অপশক্তি সহজে দমিয়ে রাখতে পারে না। তাই সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কেবল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেই চলবে না; কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া, আমল-আখলাক, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায়ও সমৃদ্ধ হতে হবে। প্রত্যেক রোকনকে নিজের জীবনাচরণের মাধ্যমে ইসলামী আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ব্যক্তিজীবনে আল্লাহভীতি, সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
কর্মীদের করণীয় তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রথম দায়িত্ব হলো নিজেদের সংশোধন করা। আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে যোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণকর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি।
প্রতিকূল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, আদর্শের পথে চলতে গিয়ে নানা বাধা ও পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে হতাশ বা বিচলিত না হয়ে ইমান, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।
শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা এটিএম মাসুম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এএইচএম আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ ড. শফিকুল আলম হেলাল এবং বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুহাদ্দিস আবু নাছর আশরাফী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন এবং মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান।
শিক্ষা শিবিরে কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রোকনরা অংশগ্রহণ করেন।







