ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্কের জেরে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে মহাবিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এবং মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সিইসি অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে দেশের সব প্রান্তের তরুণ ও জেন-জিদের একছত্র অংশগ্রহণে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ এবং ‘চলো দিল্লি’ আন্দোলন গড়ে তোলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার মুম্বাইয়ে তীব্র গরম এবং পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা এই মিছিলে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা ‘জ্ঞানেশ ব্রো, জাস্ট রিজাইন’ এবং সিইসির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি সংবলিত স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে ও অজিঙ্ক্য শিন্ডে গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, গত দুই বছরে দেশের ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এম কে স্ট্যালিন ও মমতা ব্যানার্জির মতো প্রধান বিরোধী নেতাদের সংসদীয় আসন থেকে হাজার হাজার প্রকৃত ভোটারের নাম কেটে দিয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চক্রান্ত চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকা স্থগিতকরণ, ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কিত আইন বাতিল এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতির বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে ক্ষমতাসীন বিজেপির সমর্থকদের দাবি, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও ঝাড়খন্ডের মতো রাজ্যগুলোতে বিরোধীদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী জয়ই প্রমাণ করে যে দেশের সার্বিক নির্বাচন ব্যবস্থা শতভাগ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।







