শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জমজমের পানি বণ্টন ও লাগেজ অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার নেপথ্যে বিমান কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে দায়ী করছেন প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা। গত ১ অক্টোবর বাংলাদেশ বিমানের BG-0338 ফ্লাইটে মদিনা থেকে আসা যাত্রীদের সাথে ঘটা এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রথমে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায় যে মদিনা থেকে যাত্রীদের কেনা জমজমের পানি দেশে পৌঁছায়নি। তবে কিছুক্ষণ পর যাত্রীদের ক্রয়কৃত ও নিজস্ব ট্যাগযুক্ত ১৩২টি পানির বোতল (যার মধ্যে ৩৪ জন ওমরাহ পালনকারী বিশিষ্ট ব্যক্তির পানি ছিল) বুঝিয়ে না দিয়ে, বিমানবন্দরে জমাকৃত অন্য যাত্রীদের পানি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনভিজ্ঞতার কারণে শুরুতে কয়েকজন যাত্রী অন্যের ট্যাগযুক্ত সেই পানি গ্রহণ করলেও পরে বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানান জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্য যাত্রীরা। নিজেদের অধিকারের বাইরে অন্য কারও পানি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন— এই সংরক্ষিত পানি কার এবং তা অন্যায্যভাবে কেন অন্যদের বিতরণ করা হচ্ছে? প্রবাসীদের এই চরম প্রতিবাদের মুখে সাধারণ যাত্রীরাও সেই পানি নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্থান ত্যাগ করেন।
যাত্রীদের লিখিত অভিযোগ ও অনড় অবস্থানের মুখে ১ অক্টোবর বিকেলেই বিমান কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে প্রবাসীদের নিজস্ব ট্যাগযুক্ত পানি নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার দায় স্বীকার করে ও অব্যবস্থাপনার তদন্ত সাপেক্ষে বিমানের সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বিমান কর্তৃপক্ষ যেখানে তাঁদের নিজস্ব ভুল ও অব্যবস্থাপনা স্বীকার করে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, সেখানে উল্টো সত্য কথা বলা এবং প্রবাসীদের হকের পক্ষে দাঁড়ানোর অপরাধে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে হেনস্তা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ যাত্রীরা।







