একাত্তরের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জাতির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তাঁর অভিযোগ, জাতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে অতীতের বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে পেছনে টেনে রাখার চেষ্টা চলছে।
রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে একাদশ ও স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জাতিকে সবসময় একাত্তরের চেতনার কথা শোনানো হয়। তাঁর দাবি, এই চেতনাকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে, যা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, নানা সংকট ও বিপর্যয়ের মধ্য দিয়েও বিভিন্ন জাতি ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে। জাতিকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
‘জন্মের সময় না থাকলেও রাজাকার বলা হয়’
নিজের বক্তব্যে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, এ দেশে জন্মগ্রহণ করে এখানকার পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করার পরও একটি প্রজন্মকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘নব্বইয়ের পরে জন্মগ্রহণ করলেও আমাকে বলা হয় তুমি রাজাকার, তুমি আলবদর, আল-শামস, তুমি গুপ্ত।’
তিনি আরও বলেন, দেশে জন্ম নেওয়া, কর দেওয়া এবং দেশের ও জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়। তাঁর দাবি, তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবু মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম না নেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ‘চেতনায় রাজাকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম জাতির ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক ব্যবহার, প্রজন্মগত বিভাজন এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কের বিষয়গুলো আবারও সামনে এসেছে।







