হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নামে ঘুষ দাবি, ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে যৌক্তিক দাবি করে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি ঘটে চুনারুঘাট উপজেলার ৯ নম্বর রানীগাঁও ইউনিয়নের রানীগাঁও বাজারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে যান এএসআই ইলিয়াস। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘুষ প্রসঙ্গে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত এক ব্যক্তি কৌশলে মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াসকে প্রকাশ্যে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! আমি যদি বলি পুলিশে চাকরি করি কিন্তু ঘুষ খাই না, তবে কি আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হবো? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
একজন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের এমন অপেশাদার ও উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওর সত্যতা ও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে এএসআই ইলিয়াসের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মামলা তদন্ত ও আসামির ভয় দেখিয়ে ঘুষ দাবি করা এএসআই ইলিয়াসের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহল এই ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।







