পিরোজপুরের কাউখালীতে নিজ ঘরে ঢুকে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী জেসমিন বেগমকে (৪৮) গণধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রধান আসামি পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতিদলের সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দিবাগত রাতে মাদারীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঠবাড়িয়ার জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৮)। বরিশালের এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান মিঠু এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে রোববার সকালে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জেসমিন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। স্বজনেরা সকালে ঘরের পেছনের দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র এলোমেলো এবং জেসমিনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের ভাই নাজির হোসেন ও পরিবার অভিযোগ করে জানান, অভিযুক্ত মানিকের কাছে জেসমিনের প্রায় ছয় লাখ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে ঘরে ঢুকে জেসমিনকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায় আসামিরা।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত জানান, দলীয় পরিচয় যাই হোক এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান তাঁরা। তদন্তে মানিকের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে গণধর্ষণসহ সার্বিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







