ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোরকা-নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে কটূক্তির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সাদিক কায়েম বলেন, শুধুমাত্র বোরকা-নিকাব পরার কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে অপমান, অমানবিক আচরণের শিকার কিংবা তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো আচরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর সহ্য করা হবে না।
তিনি এ ধরনের আচরণকে উগ্রবাদী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, পোশাক বা ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে হেয় করা বা তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রগতিশীলতার নামে ইসলামোফোবিক আচরণ এবং দাড়ি, টুপি, নিকাব ও পর্দার প্রতি বৈষম্য বা বিদ্বেষমূলক মনোভাব শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।
সাদিক কায়েমের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে ভিন্নমত ও ভিন্ন চিন্তার মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় তিনি কোনো অসহিষ্ণু ও উগ্রবাদী শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দেখতে না চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান, মানবিক মর্যাদা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি এ বিষয়ে বিগত সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের প্রশংসা করেন।
একই সঙ্গে যারা ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর পোশাক, ধর্মীয় পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে তাকে হেয় করা হলে তা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে ভিন্নমত ও ভিন্ন চিন্তাধারার মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান, মানবিক মর্যাদা এবং একাডেমিক সমতার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহনশীলতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ডাকসু ভিপি।
বোরকা-নিকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে কটূক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান আলাদাভাবে জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।







