বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার দাবি ও তা নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত তথ্যযাচাই ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের আন্দোলন ও দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর চার দিন পর ৯ অক্টোবর সকালে রাজধানীর মিরপুর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে ডিএনসিসির জুলাই গ্রাফিতি কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক দাবি করেন, অনুসন্ধানে জানা গেছে ওই রাজনৈতিক নেতার প্রায় ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। তবে প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো অনুসন্ধানের প্রতিবেদন, তথ্যের উৎস কিংবা মালিকানার কোনো নথি প্রকাশ করেননি।
প্রশাসকের এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। এমনকি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ৭ হাজার কিংবা ৭১৪টি অটোরিকশার মালিকানার কাল্পনিক দাবি তোলা হয়। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’ তাদের অনুসন্ধানে ওই ফটোকার্ডগুলোকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে শনাক্ত করে।
সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের জবাবে গত ৯ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানান, ৭০০-৮০০ রিকশা তো দূরের কথা, তাঁর নিজের নামে বাংলাদেশের কোথাও একটি রিকশাও নেই। এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রচারকে তিনি রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।
তথ্যযাচাই ও স্বাধীন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএনসিসি প্রশাসক ৭০০টি অটোরিকশার মালিকানার যে অভিযোগ তুলেছেন, তার সপক্ষে দৃশ্যমান বা যাচাইযোগ্য কোনো দাপ্তরিক নথি কিংবা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে আসেনি। একইভাবে গোলাম পরওয়ারের অস্বীকার করার বক্তব্যও একাই সব ধরনের পরোক্ষ মালিকানার অনুপস্থিতি পুরোপুরি প্রমাণ করে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো শ্রমজীবী গোষ্ঠীর দাবি সমর্থন করাকে ব্যক্তিগত ব্যবসার প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানোর কোনো সুযোগ নেই। পরিষ্কার তথ্য বা অনুসন্ধানী দলিল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই ৭০০ অটোরিকশার অভিযোগটি কেবল রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ ও অপ্রমাণিত গুঞ্জন হিসেবেই রয়ে গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে কোনোপ্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই দায়িত্বশীল স্থান থেকে এমন স্পর্শকাতর মন্তব্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বা সরকারি দপ্তরেও এমন কোনো রিকশার মালিকানার নিবন্ধন পাওয়া যায়নি, যা প্রমাণ করে ৭০০ অটোরিকশার এই দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।







