যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক বোমাবর্ষণের মুখেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে এবং বৃহৎ শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে তেহরান নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, তীব্র চাপ ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবে। তবে বাস্তবে তেহরানের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
যুদ্ধের ফলে ইরানের সাধারণ মানুষকে চড়া মূল্য দিতে হলেও দেশটির জনগণের একটি বড় অংশ এখন জাতীয় ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক হুমকির মুখে ইরানিদের একটি বড় অংশের মনে হয়েছে যে, এই আগ্রাসন থেকে বাঁচতে সরকারের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ অনেকাংশে কমে গেছে।
কৌশলগতভাবে ইরান পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নিজেদের একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্য স্থির করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তেহরান মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা চালানো, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরির পথ বেছে নিয়েছে।
ইরান মনে করছে, তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটনকে নতিস্বীকার করানো সম্ভব। পাশাপাশি আরব দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সীমিত করার ক্ষেত্রেও চাপ প্রয়োগ করছে তেহরান।
যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি সংকটে থাকলেও তেহরানের কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থী—উভয় রাজনৈতিক শিবিরই এখন আত্মরক্ষামূলক বা নমনীয় নীতি থেকে সরে এসেছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে কট্টরপন্থীরা আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। সামগ্রिक পরিস্থিতিতে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস, বর্তমান কঠোর অবস্থানে অনড় থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে বাধ্য করলেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন সম্ভব।







