রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক কোটি টাকা চুক্তিতে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, যেখানে ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক ও পল্লবী থানা বিএনপির এক বহিষ্কৃত নেতাসহ স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী জড়িত ছিল।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে ১৩ জনের একটি দল এই হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। জমি দখল ও চলাচলের রাস্তা বের করার মূল দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের খাতায় ‘কিলার ইব্রাহিম’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা টাকার বিনিময়ে তাঁর অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল ও রূপচানসহ একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী মাঠে নামান।
হামলায় মিরপুরের কুখ্যাত ‘মামুন বাহিনী’র লোকজনকেও যুক্ত করা হয়। পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনের নেতৃত্বে এই বাহিনী অংশ নেয়। খুন, জমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় সম্প্রতি মফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রলগ্নসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হামলা হয়। জমির একটি অংশে ‘কন্ডোমিনিয়াম’ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু ওই জমি থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায়, নিউগিনি প্রকল্পের মূল ফটক ভেঙে রাস্তা বের করার শর্তে হামলাকারীদের একটি ফ্ল্যাট উপহার ও ইটের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রায় ২০০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী পাঁচটি পিকআপে ও হেঁটে এসে ওই আবাসন প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভেতরে প্রবেশ করে এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামিদের ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন।







