কুমিল্লায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় ও মহানগর সম্পাদকের গাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলধারার গণমাধ্যমের একপেশে ও অপেশাদার চরিত্র আবারও উন্মোচিত হয়েছে। সত্যতা যাচাই না করে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে ‘জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দুই পক্ষের সংঘর্ষ’ বলে প্রচার করা হলেও সিসিটিভি ফুটেজের কল্যাণে আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে—যিনি এই তাণ্ডব চালিয়েছেন, তিনি মূলত আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী।
গত কয়েক দিন ধরে এই ভুয়া সংবাদকে পুঁজি করে বেশ কিছু গণমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারায় পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ বা সত্যতা যাচাই ছাড়াই একটি রাজনৈতিক দলের ওপর দোষ চাপিয়ে মনগড়া সংবাদ প্রচার করায় মিডিয়ার সেই হলুদ সাংবাদিকতা ও হীন মানসিকতা এখন পরিষ্কার।
সিসিটিভি ফুটেজে গোলাম সামদানীর সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার পর টনক নড়েছে এবি পার্টিরও। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এবি পার্টির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—এ বিষয়ে দ্রুত কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশও দেওয়া হবে।

অন্য একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়ে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানো এবং তা নিয়ে অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন সচেতন মহল। যেসব গণমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্ম সত্যের অপলাপ ঘটিয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে, তাদের অবিলম্বে জাতির কাছে নিঃশর্ত দুঃখপ্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জামায়াতের ইমেজ ড্যামেজ করার দায়ে সংশ্লিষ্ট মিডিয়াগুলোর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি কৈফিয়ত চাওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।







