মাদক দমনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই যখন মাদক সেবন, পাচার ও কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন, তখন পুরো ব্যবস্থা ও এর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গত কয়েক মাসে ঢাকা, রংপুর, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক সদস্য।
সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর রংপুরের একটি হোটেল থেকে ১৯ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন জেলা পুলিশের এক কনস্টেবল ও এক সাবেক কনস্টেবল। এর আগে সেপ্টেম্বরে সাতক্ষীরায় কোরেক্স সিরাপসহ দুই কনস্টেবল এবং কক্সবাজারে ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএন সদস্য গ্রেপ্তার হন। এছাড়া ঢাকার সূত্রাপুরে আদালতের মাদক ধ্বংস শাখার এক কনস্টেবল এবং পল্লবীর এক এএসআইয়ের ইয়াবাসহ আটকের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরের চিত্রকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও ডোপ টেস্টের পরিসংখ্যানেও এই চিত্র উঠে এসেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১২৬ জন সদস্যের ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ায় ১১৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও চালক কনস্টেবলসহ আরও বেশ কয়েকজন সদস্যের ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, দুই লাখ বিশ হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনীতে কিছু বিপথগামী সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনীর ওপর বর্তায় না। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, অপরাধ প্রমাণিত হলে পুলিশ সদস্য হলেও কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদক প্রতিরোধের সামনের সারিতে থাকা রক্ষকরাই যদি ভক্ষক হয়ে ওঠেন, তবে তা সরকারের গোটা উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি বাহিনীর ভেতরে নিয়মিত নজরদারি, বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট এবং অপরাধচক্রের নেপথ্যের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।







