অস্ত্র হাতে মাদক কারবারিদের তাড়া করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কয়েকশত নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, ব্যক্তিগতভাবে আত্মরক্ষার্থেই তিনি লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন, যা কোনো বেআইনি পদক্ষেপ ছিল না। তবে দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে ‘ভুল ন্যারেটিভ’ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় গণমাধ্যমের ভূমিকায় চরম হতাশা প্রকাশ করেন পদত্যাগী এই প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রচারিত খবরের জের ধরে তাঁর দল বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাতে রাজনৈতিকভাবে কোনোপ্রকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়েন, সে কথা বিবেচনা করেই তিনি স্বউদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেও এলাকা ও দেশজুড়ে মাদক নির্মূল অভিযানে তাঁর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের প্রাথমিক ইঙ্গিত দেন ইশরাক। পোস্টে সমালোচকদের প্রতি তোপ দেগে তিনি লেখেন, “এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!”
উল্লেখ্য, গত শনিবার গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র উঁচিয়ে তাড়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হয়। যদিও শুরুতে রবিবার রাতে পদত্যাগের খবরকে ‘গুজব ও অসত্য’ বলে দাবি করেছিলেন ইশরাক, অবশেষে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি মন্ত্রিসভা ছাড়েন।







