সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দুই বাংলাদেশিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরম অসত্য ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর একটি ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামের একটি চিহ্নিত প্রোপাগান্ডা ফেসবুক পেজ থেকে বানোয়াট দাবি করা হয়েছে যে, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি নাকি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
তবে তথ্যানুসন্ধান ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং পৌঁছানোর মাত্র ৬-৭ মাসের মাথায় ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন। বহু বছর ধরে পরবাসে ও সৌদি কারাগারে বন্দি থাকা ব্যক্তির পক্ষে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা চালানো বস্তুত অসম্ভব ও হাস্যকর এক দাবি।
এছাড়া ওই প্রোপাগান্ডা পেজ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, সাজাপ্রাপ্তদের ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত চরমপন্থী ধর্মীয় কন্টেন্ট ও ‘শরীয়াহ’ আইন বাস্তবায়নের পোস্ট দেওয়া হতো। কিন্তু অপপ্রচারের পর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, নজরুল ইসলামের ফেসবুক আইডিতে ২০২৩ সালের মে মাসের পর আর কোনো নতুন পোস্ট নেই। সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ছাড়া কোনো প্রকার উগ্রবাদী বা রাজনৈতিক পোস্টের অস্তিত্বই মেলেনি। অপরদিকে, নিহত অপর তরুণীর পরিচয়ই যেখানে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সেখানে তাঁর নামে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া স্পষ্টতই এক অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পর্শকাতর ও জাতীয় ইস্যুতে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, অপপ্রচারকারী ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ পেজটি রাজনৈতিকভাবে চরম বিতর্কিত। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের প্রভাবশালী অ্যাক্টিভিস্টরা এই পেজের পোস্ট নিয়মিত শেয়ার ও প্রচার করে থাকেন। এমনকি অতীত রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পূর্বেও বিতর্কিত এই পেজের পোস্ট বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার দেওয়া হয়েছিল এবং ছাত্রদল সভাপতি রাকিবও এর পোস্ট পূর্বে প্রচার করেছিলেন।







