ইসলামী রেনেসাঁর মহান কবি, মুসলিম উম্মাহর জাগরণ ও জাতীয় চেতনার স্বকীয় রূপকার কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে উন্মোচিত হয়েছে স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে তাঁর ওপর চলা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের করুণ ইতিহাস। শোষণ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যাঁর কলম আজীবন সোচ্চার ছিল, স্বাধীন বাংলাদেশে সেই কালজয়ী সাহিত্যিককে তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চরম বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছিল।
ঐতিহাসিক বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামের সুমহান আদর্শের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং ক্ষমতার কাছে মাথা নত না করায় শেখ মুজিবের সরকার কবি ফররুখ আহমদকে ঢাকা বেতারের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। কেবল কবির চাকরি কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী; তাঁর জামাতা ও নিকট আত্মীয়দের সৎভাবে জীবিকা নির্বাহের পথও রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি কবিকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও অবরুদ্ধ করতে রাস্তাঘাটে তাঁর চলাচলের পথ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় এই অর্থনৈতিক অবরুদ্ধতা ও নিপীড়নের ফলে কবির পরিবার এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। অর্থের চরম সংকটে পড়ে কবির মেধাবী ছেলের ডাক্তারি পড়াশোনা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়। আরও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে যখন প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ও বিনাচিকিৎসায় কবির এক কন্যাসন্তান মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে- অর্ধাহারে দিনাতিপাত করা কবি ফররুখ আহমদ তীব্র জ্যৈষ্ঠ মাসের রমজানে চরম শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সাহরি বা ইফতারের পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে না খেয়েই রোজা রাখতেন। অনাহার, মানসিক যন্ত্রণা ও ব্যাধি কবিদেহে মারাত্মক থাবা বসায়। অবশেষে ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর (২৭ রমজান) চরম চিকিৎসা ও অর্থসংকটে ভুগে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ‘পাঞ্জেরী’র এই অমর স্রষ্টা।
ইসলামপ্রিয় সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, যে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ এক মহান কবি ও তাঁর পরিবারকে অনাহারে ও বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল, ইতিহাস আজ তাদের ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে কবি ফররুখ আহমদ তাঁর ঈমানী লড়াই ও অমর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে চিরকাল কোটি মানুষের হৃদয়ে ভাস্বর হয়ে আছেন।







