পানির নিচে চলাচলকারী বিশাল আকৃতির সাবমার্সিবল ড্রোন বা ‘আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিক্যাল’ (UUV) পরিচালনায় বিশ্বকে চমকে দিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ‘মাদারশিপ’ (মূল বাহক জাহাজ) তৈরি সম্পন্ন করেছে চীন। দক্ষিণ চীনের একটি অত্যাধুনিক শিপইয়ার্ডে নির্মিত এই রহস্যময় ও চোখধাঁধানো জাহাজের স্যাটেলাইট ও এক্সক্লুসিভ ছবি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের হাতে এসে পৌঁছেছে, যা ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের ঢেউ তুলেছে।
চীন সরকারের প্রযুক্তিগত এই দ্রুত অগ্রগতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য সরাসরি এক বড় ধরনের কৌশলগত হুমকি বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এর আগে চীনের প্রথম মাদারশিপটি নির্মিত হয়েছিল সাংহাইয়ের খ্যাতনামা হুদং-ঝংহুয়া শিপইয়ার্ডে। এবার দ্বিতীয় জাহাজটির আত্মপ্রকাশ প্রমাণ করে—চীন শুধু তাদের নিজস্ব উপকূলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ভারত মহাসাগরের মতো কৌশলগত ও দূরবর্তী অঞ্চলে তাদের পানির নিচের ড্রোন মোতায়েন, রিফুয়েলিং ও সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিচ্ছে।
যেসব মেগা-ড্রোনকে সমর্থন দিতে এই স্পেশাল মাদারশিপটি ডিজাইন করা হয়েছে, সেগুলোর সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চীনের হাইনান উপকূলে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ মিটার দীর্ঘ এই ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বহুল আলোচিত ‘অরকা’ ড্রোনের চেয়েও আকারে অনেক বড় এবং ক্ষমতাবান। সমুদ্রের তলদেশে গভীর নজরদারি চালানো, শত্রুপক্ষের অজান্তে সাগরে মাইন পুঁতে রাখা এবং প্রয়োজনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা টর্পেডো হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে এই ড্রোনগুলোর।
ভারত মহাসাগরে চীনা আধিপত্যের এই নতুন অধ্যায় মার্কিন-ভারত সামরিক মেরুকরণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ভারত মহাসাগর ও ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে বেইজিংয়ের এই বিশাল জলদানব ও মাদারশিপ মোতায়েন সার্বিক সমুদ্র নিরাপত্তার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে, যা পেন্টাগন এবং নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর করে তুলেছে।







