চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘাত ও হানাহানিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের প্রকাশিত এক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
১৬টি জাতীয় দৈনিক সংবাদ এবং সংগঠনের নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতার মোট ঘটনার প্রায় ৯১ শতাংশ অর্থাৎ ৯৩১টির সঙ্গেই সরাসরি জড়িত রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা অন্যান্য দলের সঙ্গে তাদের সংঘাতের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৩২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের ৩২১টি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত এবং বিএনপি-আওয়ামী লীগের ৯৩টি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপি ও এনসিপি এবং অন্যান্য দলের মধ্যকার সংঘাতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৯ মাসে নিহতদের মধ্যে বিএনপিরই ৪৬ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের ৮ জন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ জন, চরমপন্থী গোষ্ঠীর একজন এবং সাধারণ নারীসহ অন্যান্য পরিচয়হীন ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ৬২৩ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর বাইরেও মব সহিংসতা, গণপিটুনিতে ১৮৭ জন নিহত এবং কারাগারে ৯৫ জন বন্দির মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই ৯ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযানে সারা দেশে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।







