জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার ও একটি নির্দিষ্ট দল নানা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ধরনের অপতৎপরতা দেশের অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনতার উপচে পড়া এই সমাবেশে তিনি বলেন, “কিছু দল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মসূচি যারা দেয়, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”
নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, অতীতে নির্বাচনের টিকিট বাণিজ্যকারী চক্র এবং সীমান্তের ওপারে পালিয়ে থাকা পরাজিত শক্তি বর্তমানে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে একজোট হয়েছে। জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে নস্যাৎ করতে অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে সর্বাবস্থায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান—দুটিকেই ধারণ করে। যারা দেশ গড়ার নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা দেশকেও বিশ্বাস করে না। দেশের ভাগ্য বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না; নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই গড়তে হবে।”
কৃষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশের ৩৮ হাজার আখচাষিকে ইতোমধ্যে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে উল্লেখ করে তিনি চলতি বছরে ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে ৪০ লাখ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা দেন। এছাড়া গত আট মাসে সারা দেশে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করার কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতের উন্নয়নে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আগামী বছর বন্ধ থাকা ৪৬টি কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে।
আগামী পাঁচ বছর সরকারের উন্নয়নযাত্রায় দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে এবং জনগণের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শেষ করেন।







