ভারতের আসামে উচ্ছেদ অভিযানের নামে ১,১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ভিটেমাটি এবং ৫০ বছরের পুরোনো ১০টিরও বেশি ঐতিহাসিক মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের এই অমানবিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ১৮ অক্টোবর (রোববার) আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকায় রাজ্য সরকারের বলপ্রয়োগে ৬০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ঠিক এক দিন আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর), আসামের আরও তিন জেলায় অভিযান চালিয়ে ৫৪৭টি পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করা হয়। ফলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ১,১০০টিরও বেশি পরিবার চরম অমানবিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছে।
মানবতার প্রতি এই চরম আঘাতের চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান জানান, উচ্ছেদের নামে ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্ধশতাব্দীর পুরনো অন্তত ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেবল আসামেই নয়, এর আগে গুজরাটের আহমেদাবাদে ৪০০ বছরের প্রাচীন ‘মাঞ্চা মসজিদ’ এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গির সোমনাথ জেলায় প্রাচীন বহু মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থান ভেঙে ফেলার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও এসব ধ্বংসযজ্ঞের ওপর স্থগিতাদেশ না দিয়ে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ আনেন তিনি।
বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মোদি সরকার ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় কেবল চরমভাবে ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রীয় শক্তিতে মুসলমানদের নাগরিক অধিকার পরিকল্পিতভাবে ধূলিসাৎ করছে। স্বাধীন উপাসনালয় ও বসতবাড়িতে এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবতা, আইনের শাসন এবং আধুনিক সভ্য সমাজের ন্যূনতম মূল্যবোধের পরিপন্থী ও চরম ধিক্কারজনক।
ভারতের এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বিশেষ বার্তা দেন জামায়াত আমির। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে চরম ধৈর্য ও সতর্কতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তপারে ভারতের কোনো অপকর্ম বা উসকানিতে প্ররোচিত হয়ে দেশের অভ্যন্তরে যেন কোনো ধর্মীয় বিভাজন বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ কেউ না পায়।
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, কোনো শত্রুপক্ষের পাতা ফাঁদে দেশের মানুষকে পা দেওয়া যাবে না। রক্তে অর্জিত বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসা আন্তঃধর্মীয় সামাজিক সম্প্রীতি ও অখণ্ডতা যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই এই মুহূর্তে দেশপ্রেমিক জনতার প্রধান দায়িত্ব।







