ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস মেগা হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট’-এর বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ এক নজিরবিহীন ও সংঘাতময় রূপ ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা উপত্যকা। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের অন্তত ৬টি সাঁজোয়া ও সাধারণ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যালয়, পাসিঘাট থানা এবং রাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। দিনভর চলা এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী মারাত্মক আহত হয়েছেন। সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন শহরজুড়ে যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ, র্যালি ও মিছিলের ওপর অনির্দিষ্টকালের কঠোর নিষেধাজ্ঞা (১৪৪ ধারা) জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। জারি করা সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাঁচজনের বেশি মানুষের একত্র হওয়া, রাজনৈতিক জনসভা ও যেকোনো ধরনের অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দেখামাত্র কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপার ও স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই নজিরবিহীন সহিংসতার জন্য রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বসিরাম সিরাম অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং মেগা প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও সমীক্ষায় সম্মতি আদায় করতে রাজ্য সরকার ও পুলিশ স্থানীয় আদিবাসী গ্রামবাসীদের ওপর অমানবিক চাপ ও জোর-জুলুম প্রয়োগ করছে। পুলিশি বলপ্রয়োগই স্থানীয়দের বিদ্রোহী করে তুলেছে বলে দাবি তাঁর।
বিতর্কিত এই সিয়াং নদীর ওপর প্রস্তাবিত মেগা বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার আপত্তি এবং রাজ্য সরকারের আগ্রাসী অবস্থানের কারণে সমগ্র এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রমাণিত তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচার ও গুজব না ছড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি বিনীত আবেদন জানানো হয়েছে।







