পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিগত বহু বছরের তুলনায় এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই চমৎকার পরিবেশ গড়ে তোলাকে তিনি দেশের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেন।
অতীতের দুর্গোৎসবের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত ১৫ থেকে ১৭ বছরে স্বৈরাচারী শাসনামলে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী হামলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র ঘটানো হতো। এবার সেই ধরনের পরিকল্পিত কোনো নাশকতা বা দুর্ঘটনামুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ডিজিটাল অ্যাপ মনিটরিং ও আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণেই নাশকতাকারীদের একাধিক গুপ্ত পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবদান রাখায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ জনগণের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবার তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় মুহূর্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে পূজায় অভূতপূর্ব সরকারি সহায়তার পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৬ সালে দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। গত সরকারের আমলে পূজায় সর্বোচ্চ সরকারি অনুদান ছিল ৪ কোটি টাকা, যা এবার প্রধানমন্ত্রী ১ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে মোট ৫ দিনের দীর্ঘ ছুটি দেওয়া হয় এবং মণ্ডপপ্রতি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়।
বক্তব্যের শেষাংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সরকার একটি অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কোনো দেশবিরোধী বা পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না।







