ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে মামলা সাজানোর বিনিময়ে মানিক পশারী নামের এক ব্যক্তি আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা খেতাব’ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সাদিক কায়েম এসব অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আল্লামা সাঈদীর নির্বাচনী এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক ছিল।
সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ওই এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা আল্লামা সাঈদীর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক বোঝাতে বলতেন, ‘মায়ের কোলে সন্তান যেমন থাকে, সাঈদীর কাছে আমরা সেভাবেই আছি।’
সুখরঞ্জন বালীর প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য
সাদিক কায়েম তাঁর স্ট্যাটাসে সুখরঞ্জন বালীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আল্লামা সাঈদীর পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে সুখরঞ্জন বালী সারা বিশ্বের সামনে সাহসের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
সাদিক কায়েমের দাবি, এলাকার মানুষ আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ঘৃণা করতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে যেভাবে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নানা অভিযোগ সাজানো হয়েছিল, একইভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পরও জনমতের বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন কাহিনি তৈরি করা হচ্ছে।
তবে মানিক পশারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মৃত্যুর পর তাঁকে ঘিরে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সাদিক কায়েমের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি। তাই এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ ও মতামত হিসেবেই বিবেচ্য।
‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়
অন্য একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাদিক কায়েম ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ও রাজধানী ঢাকার উন্নয়ন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, ‘আগামীর বিপ্লব হবে ইনসাফের বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।’ একই সঙ্গে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী ঢাকা নগরী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাদিক কায়েমের বক্তব্যে একদিকে আল্লামা সাঈদীকে ঘিরে অতীতের মামলা ও বিতর্ক নিয়ে তাঁর অবস্থান উঠে এসেছে, অন্যদিকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও গুরুত্ব পেয়েছে।







