ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের মাত্র একদিন বাকি থাকতে নির্বাচনী মাঠে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকায় পক্ষপাতিত্বের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) রাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী এবং প্রতিনিধিরা আলাদাভাবে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দাখিল করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ‘ইএসডিও’ নামের একটি স্থানীয় এনজিওর কর্মকর্তাদের ডেকে বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে এবং সেখানে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তাদের প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে জামায়াত প্রার্থী বলেন, পক্ষপাতদুষ্ট এই তালিকায় একটি নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক অনুসারী ও পোলিং এজেন্টদের কৌশলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আখানগরের বলিতাপাড়ায় জামায়াতের একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বিএনপি সমর্থকদের পক্ষ থেকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কোনো প্রতিকার করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্টো তাদের ওপর হামলা হওয়ার পর উল্টো জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন দেলাওয়ার হোসেন।
ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকা বা না থাকা পুরোপুরি ভোটের দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম ও জেলা সহকারী কফিল উদ্দিনসহ অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।
এদিকে জামায়াতের আনা সমস্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়েছে বিএনপি। জেলা বিএনপির প্রতিনিধি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আতাউর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বরং সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকায় জামায়াত-ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু ব্যক্তিকে একপেশেভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্টো জামায়াত পক্ষের লোকজনই ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের হামলার অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়ায় মাঠপর্যায়ে এর অসংখ্য সমর্থক রয়েছে। এত বড় নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিপক্ষ যতই উসকানি সৃষ্টি করুক না কেন, নেতাকর্মীরা যেন সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জামায়াত ও বিএনপি—উভয় পক্ষের পক্ষ থেকেই আমরা লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ হাতে পেয়েছি। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নিয়োজিত থাকবে।”







