ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগে ও পরে উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন।
ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেলাওয়ার হোসেন ভোটারদের দলে দলে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তবে ভোটগ্রহণ কেবল শুরু হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এই মুহূর্তে বড় কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলে জানান তিনি।
এ সময় নিজের ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার গুরুতর বিষয়টি তুলে ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত প্রার্থী। তিনি বলেন, “ছবি না থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা প্রকৃত ব্যক্তি কি না, তা বোঝা কঠিন। এতে সেখানে প্রক্সি বা জাল ভোটের সুযোগ থাকতে পারে।” বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখার জন্য তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি জোর অনুরোধ জানান।
নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হওয়ায় ভোট শেষ পর্যন্ত কতটা সুষ্ঠু হবে, তা মূলত সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে।
এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স মাঠে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৫টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন ভোটার।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির অপর প্রার্থী ও জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই উপনির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।







