জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২)-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল পলাতক চার আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়া আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।
আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—
উসকানি ও নির্দেশ: গত বছরের জুলাই মাসে আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং তাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশনা প্রদান।
বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত: হানিফের নির্দেশনায় কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ে বৈঠক করে নিরীহ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
৬ জনকে হত্যা: ৫ আগস্ট আসামিদের সরাসরি নির্দেশে কুষ্টিয়া শহরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নিহত হন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর দীর্ঘ বিচারকার্যে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সব পক্ষের বিস্তারিত যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি অন্যতম বড় ও দৃষ্টান্তমূলক রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







