সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার একের পর এক ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তোড়পাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠে এসেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রথমে তাঁকে গুম করা হয় এবং পরবর্তীতে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত তাঁর সহপাঠী কেএসএম ইন্তিসার ইনজিমাম ফেসবুকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কোন্দল নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম। স্থানীয় এক প্রাক্তন এমপির পুত্রের মাধ্যমে তিনি নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক উদীয়মান রাজনৈতিক কর্মীদের এই পরিণতি দেশজুড়ে বিরাজমান চরম রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যকেই প্রকাশ্যে আনছে।
অন্যদিকে, রাজধানীতে র্যাব (এসআরবি)-এর অভিযানে মাদক কারবারি সন্দেহে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’-এ এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে একে আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
রাষ্ট্রীয়ভাবে গুমের ঘটনা অস্বীকার করা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বাগেরহাট থেকে ২০২ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া মিরাজ শেখের পরিবারের স্বজনেরা আজও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। স্বজনদের দীর্ঘ নিঃশ্বাস ও কান্নার মধ্যেও সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছে যে বর্তমানে কোনো গুমের রেকর্ড নেই—যাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ক্ষোভ ও হতাশা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতির পাশাপাশি নাটোর ও ভালুকায় নারী উদ্যোক্তাদের হয়রানি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে দিনের আলোয় লুটপাট এবং প্রতিবাদের জেরে পুলিশি নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের মতে, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত বিচার বন্ধে রাষ্ট্র যদি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।







