জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের অভিযোগ, ১৯৭১ সালে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।
গত শনিবার পিরোজপুরে মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফন নিয়ে জটিলতা ও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন এলাকার ওই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন অভিযোগ করে বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কারস্বরূপ মানিক পশারীকে জোর করে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালে সাঈদী রাজাকার ছিলেন না এবং পিরোজপুরেও অবস্থান করেননি, বরং তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী বক্তা ছিলেন।
আব্দুস সালাম বাতেন আরও জানান, তৎকালীন সরকারের আমলে মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় বাধ্য হয়েই পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জেলা প্রশাসন তাঁকে প্রটোকল অনুযায়ী গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।
একই সুর মিলিয়ে আরেক মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হক বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে আদালতে বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পরই আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে তড়িঘড়ি করে মুক্তিযোদ্ধা বানায়, কিন্তু পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর কোনো সঠিক যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার কথা থাকলেও জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন মানিক পশারী। দুপুরে তাঁর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও দাফন নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়।
পরবর্তীতে নানা জটিলতা কাটিয়ে বিকেলে পুলিশলাইনসে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর রাত ১টার দিকে মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং রাত ১টা ২০ মিনিটে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।







