জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার ইচ্ছা ছিল আসিফ নজরুলের। এখন দায়িত্ব তার কোর্টে—দেখা যাক, তিনি কতটা দক্ষভাবে খেলতে পারেন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুরুল হক হলে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উপদেষ্টামণ্ডলীসহ শহীদ মিনারে গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঘোষণা অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদেরও উপস্থিত থাকতে হবে। ওই দিন এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জেনেছি জুলাই সনদ বর্তমানে আইন কমিশনে রয়েছে। আমরা দেখতে চাই, ড. আসিফ নজরুল কোনো বিলম্ব বা টালবাহানা না করে জনগণের স্বার্থে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন এবং প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন।”
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়া জুলাই শহীদ ও জনগণের এক বড় অর্জন। জুলাই সনদ সই না হওয়ার কারণে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে এনসিপি অবস্থান নিয়েছে, যার সুফল এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে।”
বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে তিনি বলেন, “এই পচা সংবিধান দিয়ে দেশ চালানো সম্ভব নয়। এটি আমাদের ভাইদের হত্যার বৈধতা দিয়েছে।”
রাজনীতির হুমকি প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, “যারা রক্তের রাজনীতি করতে চায়, বুলেট রেভুলেশনের পর জনগণ ব্যালট রেভুলেশনের মাধ্যমে জবাব দেবে। দলীয় দাস হিসেবে সংস্কার ঠেকাতে চাইলেও তারা সেফ এক্সিট পাবে না—মানুষ তাদের বিচার করবে।”
এনসিপির সরকার গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা ক্যান্টনমেন্টের বা দূতাবাসের পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাব না। তাই জনগণ এনসিপিকে ভোট দেবে।”
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে অদক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, “যে লাউ সেই কদু—এমন নির্বাচন এনসিপি চায় না। বিএনপি-জামায়াত নাটক করছে; একজন ভারত, আরেকজন পাকিস্তানে পা দিয়ে রেখেছে।”
