বগুড়ার শিবগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার ও মঙ্গলবার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ও মাঝিহট্ট ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত আলাদা দুটি কর্মী সমাবেশে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেন।
দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-২ আসনের সম্ভাব্য বিএনপি প্রার্থী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া দুজন হলেন শিবগঞ্জ উপজেলা জাপার সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোত্তালেব মোল্লা এবং মাঝিহট্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা এসকেন্দার আলী শাহানা। তাঁরা দুজনই বগুড়া-২ আসনের সাবেক জাপা সংসদ সদস্য ও জেলা জাপার সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, গত বছরের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিস্ফোরক আইনে এই দুই চেয়ারম্যানের নামে দুটি মামলা রয়েছে, যা এখনো তদন্তাধীন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোকামতলা বাজারে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা চালানো হয়, যেখানে মিনহাজ নামের এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা জানান, আবদুল মোত্তালেব মোল্লা উপজেলা জাপার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি সরকারি প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি নিয়োগে ডিও বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোত্তালেব বলেন, “দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় বিএনপিতে যোগ দিয়েছি, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।”
অন্যদিকে, এসকেন্দার আলী এর আগে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরি করতেন। দুর্নীতির মামলায় চাকরি হারানোর অভিযোগ থাকলেও তিনি দাবি করেন, “দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শহীদ জিয়ার আদর্শ ও খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা রেখেই বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, “দুজনই স্বেচ্ছায় বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। মামলার আসামি কি না, তা আমাদের জানা নেই। তাঁরা সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন—জামিনে না থাকলে তা সম্ভব নয়।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বিএনপিতে কোনো পদ দেওয়া হয়নি, তবে তাঁরা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
