ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়।
তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এছাড়া বড় অঙ্কের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০১৩ সালের আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
পেশাগত অগ্রগতি
হাবিবুর রহমানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। স্থানীয় বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে তিনি এসএম মডেল গভর্নমেন্ট হাই স্কুল এবং সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে একটি জাতীয় দৈনিকে স্থানীয় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন।
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পিএসসিতে কাজ শুরু করার পর তিনি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন এবং বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। তিনি ১৭তম বিসিএসের কর্মকর্তা। তার কর্মজীবনে তিনি তিনবার বিপিএম ও দুবার পিপিএম পদক পেয়েছেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তার পদোন্নতি ও দায়িত্বের পরিধি দ্রুত বাড়তে থাকে। তিনি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।
বিতর্ক ও অভিযোগ
মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক আন্দোলন দমনের সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দলীয়করণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিরও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে তার কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে।
