গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। দলীয় পদ ব্যবহার করে মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। অভিযুক্ত নেত্রী কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক লাইজু বেগম। তিনি ফুকরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শওকত হোসেন সরদারের মেয়ে।
লাইজু বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বিএনপির স্থানীয় নেতারাও। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শতাধিক ভুক্তভোগী জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, লাইজু বেগম একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন। এছাড়া দলের নাম ভাঙিয়ে লোকজনকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে অর্থ আদায় করাই তাঁর নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা বদরুল আলম বলেন, “গত ১০ অক্টোবর লাইজুর আগের স্বামী ফুকরা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় লাইজু এসে তাঁর ওপর চড়াও হয়। আমি বাধা দিলে আমার বিরুদ্ধেই ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে থানায় মামলা দেয়। কয়েক দিন পর একই ঘটনার ভিত্তিতে আদালতে ধর্ষণ মামলাও করে।”
ফুকরা গ্রামের ভ্যানচালক চঞ্চল মোল্যা বলেন, “দুই মাস আগে লাইজু বাজার থেকে একটি ওয়ারড্রব বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলে। আমি অসুস্থ থাকায় রাজি না হওয়ায় সে নিজেই ওয়ারড্রব ভেঙে ফেলে। পরে উল্টো আমাকে দোষারোপ করে টাকা দাবি করে এবং পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখায়। শেষ পর্যন্ত মান-সম্মানের ভয়ে দুই হাজার টাকা দিই।”
ধলগ্রামের সাজ্জাদুল ইসলাম রানা জানান, “লাইজু আমাকে বাজারে ডেকে নিয়ে গালাগাল করে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয়। পরে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, “লোকজনকে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে এলাকা ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।”
লিটন সরদার নামে এক যুবক অভিযোগ করেন, “লাইজু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেছে। এখন আপসের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও লাইজু বেগমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি শিলা বেগম বলেন, “আমরা তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







