বাংলাদেশে চীনবিরোধী প্রচারণায় জড়িত একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা এসবি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনায় দীর্ঘদিন ধরে এই নেটওয়ার্ক কাজ করছে—যার সঙ্গে রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা ও সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তিরা জড়িত। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ওলামা লীগ ও কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তারা সংগঠিতভাবে চীনবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সরকারের পরিবর্তনের পর এই তৎপরতা আরও সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে নাম এসেছে চারজনের—আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আবদুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা আবু জাফর কাসেমী ও মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি। ২০২৩ সালে নৈতিক ও সাংগঠনিক অসঙ্গতির অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে অনলাইন প্রচার চালান। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
আবদুল্লাহ আল মামুন গাইবান্ধার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত এ নেতা কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার এপিএস হিসেবেও কাজ করেছেন।
অন্যদিকে, মাওলানা আবু জাফর কাসেমী ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী এবং সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান। তিনি খেলাফত আন্দোলনের সাবেক নেতা ও ঢাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং চীনের উইঘুর ইস্যুতে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।
সন্দ্বীপের বাসিন্দা মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও বিএসএএফের প্রধান। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয় থেকে চীনবিরোধী কর্মসূচি আয়োজন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তার ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং বিজেপি নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের তথ্যও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে যোগাযোগ করা গেলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
মাওলানা আবু জাফর কাসেমী দাবি করেছেন, তিনি কোনো চীনবিরোধী প্রচারণার সঙ্গে জড়িত নন, বরং উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করেছেন মাত্র।
মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ীও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি চীনবিরোধী প্রচারণায় জড়িত নই।” তবে তার অতীত সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অসংলগ্ন প্রতিক্রিয়া দেন।
আবদুল্লাহ আল মামুন কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনবিরোধী এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম এখন কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে।







