রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবার সারাদিনজুড়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকার অন্তত আটটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং চারটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, মৌচাক, শেরেবাংলা নগর ও খিলগাঁওসহ আটটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সকালে মোহাম্মদপুরে ‘প্রবর্তনা’ অফিসের সামনে, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ও ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে এবং মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
সন্ধ্যার পর মৌচাক, মিরপুর-১০, শেরেবাংলা নগর ও খিলগাঁওয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এছাড়া বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে বাড্ডা, শাহজাদপুর, ধানমন্ডি ও যাত্রাবাড়ীতে। সকালে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। মধ্যরাতের পর যাত্রাবাড়ীতে রাইদা পরিবহনের একটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সব জায়গাতেই দ্রুত অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “ঘটনাগুলো বিশেষ কোনো দিনকে কেন্দ্র করে ঘটানো হচ্ছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে।”
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, “এগুলো আপাতত বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে, তবে সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আগামী বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় সোমবারের এসব ধারাবাহিক হামলায় শহরজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
