ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার বিকেলে উপজেলার পাটবাজার এলাকায় সংঘর্ষের সময় আহত হয়ে মারা যান উত্তর জেলা ছাত্রদলের কর্মী তানজিল আহমেদ। তিনি জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তানজিলের বাড়ি ময়মনসিংহ নগরের কৃষ্টপুর দৌলতমুন্সি রোডে। সোমবার জানাজা শেষে তাকে ময়মনসিংহে দাফন করা হয়।
এ ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সহিংসতার অভিযোগে গৌরীপুর বিএনপির পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কৃতদের নাম জানানো হয়। তারা হলেন—উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম খোকন, সদস্য মাসুদ পারভেজ কার্জন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সুজিত কুমার দাস এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান পলাশ। বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোতাহার হোসেন তালুকদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৩টার দিকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন তার সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ গৌরীপুর সরকারি কলেজ হোস্টেল মাঠের জনসভায় যাচ্ছিলেন। একই সময়ে মনোনয়ন বঞ্চিত আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ পৌরসভার ধানমহালে নারী সমাবেশ করছিলেন। মিছিলটি পাটবাজার মোড় অতিক্রম করার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, যা প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে নারী সমাবেশ ভণ্ডুল হয়ে যায়।
সংঘর্ষের সময় হিরণপন্থীরা থানা সংলগ্ন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। পরে তারা অফিসের আসবাবপত্র রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল।
অন্যদিকে, তখন কলেজ হোস্টেল মাঠে ইকবাল হোসাইনের জনসভা চলছিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ মো. আজিজুল হক, সঞ্চালনায় ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিচ। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসাইন। সভা শেষে ফেরার পথে তার অনুসারীরা আবারও হিরণ সমর্থকদের হামলার শিকার হন। এ সময় ছাত্রদল নেতা তানজিল আহমেদ আবিদ (৩০) দৌড় দিতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব ময়মনসিংহ–৩ (গৌরীপুর) আসনে ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। কিন্তু ঘোষণার এক সপ্তাহ পেরোলেও স্থানীয় বিএনপি এখনো দুই ভাগে বিভক্ত।







