জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দলটি এরই মধ্যে প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, যদি ভোটে অংশ নেওয়ার ‘সবুজ সংকেত’ মেলে, তাহলে তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে। জাতীয় পার্টির লক্ষ্য এককভাবে নয়, বরং জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী—যে কোনো একটি দলের সঙ্গে জোট গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দলটি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন,
“জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পার্টির আসন সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি যে দলের সঙ্গে জোট হবে তাদেরও আসন বাড়বে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে যে ধোঁয়াশা রয়েছে, তা সম্ভবত তফসিল ঘোষণার পর কেটে যাবে। তখনই জোট বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে দলটি।
নির্বাচন কমিশনের সংলাপ ও জাপার অনিশ্চয়তা
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে জাতীয় পার্টিকে এতে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ইসির কাছে দুটি আলাদা কমিটি জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন,
>তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। বিষয়টি সমাধান হলে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।”
জাপার নির্বাচনী প্রস্তুতি
ডিসেম্বরেই ঘোষণা হওয়ার কথা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে।
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না, যা রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জাতীয় পার্টি জানিয়েছে, তারা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও শেষ পর্যন্ত জোটের ওপর নির্ভর করবে কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
পাটোয়ারী বলেন,
“আমাদের ছক তৈরি আছে, কোন আসন থেকে কে প্রার্থী হতে পারেন। প্রার্থী ঘোষণা করতেও বেশি সময় লাগবে না।”
জোট রাজনীতি ও অতীত প্রেক্ষাপট
২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি কখনও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে, কখনও আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জাপা রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
তবে এবার দলটি বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। পাটোয়ারী বলেন,
“রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। অনেক দল আমাদের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী, আমরাও আগ্রহী
অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও প্রতীকের সংকট
গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর, চলতি বছরের ৯ আগস্ট জাতীয় পার্টিতে ফের বিভাজন ঘটে। চেয়ারম্যান জি এম কাদেরপন্থি অংশকে বাদ দিয়ে আরেকটি অংশ কাউন্সিল করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে।
এই অংশ নিজেদের মূল জাতীয় পার্টি দাবি করে এবং ইসির কাছে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক তাদের কাছে রাখার আবেদন জানিয়েছে।
নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু বলেন,
“আমরাই নিয়ম মেনে কাউন্সিল করেছি। লাঙ্গল প্রতীক আমাদের কাছেই থাকবে।”
তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, এই কোন্দল না মিটলে জাতীয় পার্টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
জাপার মহাসচিব পাটোয়ারীও স্বীকার করেছেন,
দলীয় কোন্দল একটি বড় সংকট। তবে পার্টির নিয়ন্ত্রণ এখনো জি এম কাদেরের হাতেই।”
সূত্র: বিবিসি বাংলা
