আগামী জাতীয় নির্বাচন জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হতে হবে— এমন দাবি জানিয়ে সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে জুলাই ঐক্য। সংগঠনটি জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে শহিদ পরিবার, আহত ও জুলাইয়ের ছাত্র জনতাকে নিয়ে রাজপথ থেকেই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের মুখ্য সংগঠক মোসাদ্দেক ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, “ভারতের তৈরি ৭২ সালের সংবিধান দিয়ে চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। ১৪০০-এর বেশি শহিদ ও ৩২ হাজার আহত ভাইবোনের রক্তের বিনিময়ে আমরা হাসিনার পতন ঘটিয়েছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, আগামী ১৩ নভেম্বর খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগ করছে।
জুলাই ঐক্যের মুখ্য সংগঠক বলেন, “যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জুলাইকে ধারণ করে না, তারাই আজ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। তাদের প্রশ্রয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সারা দেশে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। আদালত গণহত্যায় জড়িতদের জামিন দিচ্ছে, অথচ এখনও গণকবরে ১১৪ জনের লাশ পড়ে আছে— যাদের পরিচয় অজানা।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সরকারের মধ্যে “চরম অসন্তোষ” বিরাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মোসাদ্দেক বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো প্রথমে জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধে জড়ায়, এখন তা রাজপথে সংঘাতে পরিণত হয়েছে। সরকার আলোচনার জন্য ৭ দিনের সময় দিলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।”
সীমান্তে ভারতের সামরিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় ভারত সেনা ঘাঁটি ও স্টেশন তৈরি করেছে। যা বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী বুধবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল এবং বৃহস্পতিবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই ঐক্য।







