নামসর্বস্ব সংগঠনের ব্যানারে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইসকন। কৌশল পাল্টে এবার তারা রামসেনা, শিবসেনা, হিন্দু মহাজোট, সনাতনী জাগরণ জোটসহ একাধিক সংগঠনের নেতৃত্ব দখল করে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। চট্টগ্রামের প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের আন্ডারগ্রাউন্ড অংশ এখন এসব গোপন বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। দেশজুড়ে অন্তত ১৩টি সংগঠনের নামে এক হাজারের বেশি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গেরুয়া পোশাক ত্যাগ করে সাধারণ ভক্তের বেশে ইসকনের সদস্যরা এখন বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিচ্ছেন, যাতে সন্দেহ এড়ানো যায়।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই সংগঠনগুলো সংখ্যালঘু অধিকারের নামে উগ্রবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা। ইতিমধ্যে গত এক বছরে ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় সহস্রাধিক কমিটি গঠিত হয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মী।
চট্টগ্রামের জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদে ইসকনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। প্রবর্তক মন্দিরে গোপন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও। এদের অনেকে বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে গোয়েন্দাদের দাবি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের স্রাইন কমিটি, চট্টগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনও এখন ইসকনের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব সংগঠনের নেতাদের অনেকে আওয়ামী লীগের পদে রয়েছেন এবং ভারতীয় উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রাখছেন।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এসব ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক সংগঠন এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য—ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফ্যাসিবাদী প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা অনিন্দিতা বড়ুয়া জানিয়েছেন, এসব সংগঠনের কমিটি ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ যদি ধর্মীয় আবরণের আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় জড়িত থাকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
