গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারের সঙ্গে সরকারের টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে; ভিডিওটি চাঁদাবাজির অভিযোগের সূত্রে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দুইজন দলের কর্মী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মহানগর কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়—বিএনপি নেতা শওকত হোসতন এবং আফজাল হোসেন মুখোমুখি বসে আছেন; ভিডিওটি গোপনে ধারণ করা বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই সাক্ষাৎকারের অংশে আফজাল হোসেন নিজের পকেট থেকে টাকার বান্ডিল বের করে শওকতের হাতে তুলে দেন এবং বলেন, ‘এখানে ২৫ হাজার টাকা কম আছে…’ শওকত সেটি মেনে নিয়ে বলেন, ‘ঠিক আছে, যা হইছে তাই।’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শওকত হোসতন সংবাদ সম্মেলনে ভিডিওর টাকার লেনদেনের অংশটিকে স্বীকার করে বলেছেন যে সেটি চাঁদাবাজি নয়—একটি গাড়ি বিক্রির টাকাবিবরণ। তিনি অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে মামলা করেছেন।
ভিডিও প্রকাশের পর মহানগর বিএনপির কর্মী আফজাল হোসেন বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। একইভাবে কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য শেখ শহিদুল ইসলামও নিরাপত্তার অনুরোধ করেন। মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, অভিযোগ দুটি পাওয়া গেছে এবং এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আফজাল হোসেনের আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তার ব্যবসার ওপর শওকত সরকারের নজর পড়ে; দীর্ঘদিন ধরে তাকে মাসিকভাবে ৪–৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে বলা হয়েছে এবং এককালীন ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে—বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে তিনি চাঁদা দিতে রাজি হন। ভিডিওটি নাজমুস সাকিব নামের ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারিত হলে শওকত হোসতন ২৬ অক্টোবর মানহানির মামলাও করেন। আফজাল দাবি করেন, ভিডিও প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হত্যার হুমকি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কেন্দ্রীয় কোনো নেতার সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় গত ১৪ মার্চ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে; পরে তার পিতার একমাত্র বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভিডিও ছড়ানোর পরও শওকত তার বিরুদ্ধে ২৬ অক্টোবর মানহানির মামলা করেন বলে শহিদুল অভিযোগ করেন। তিনি জানান, এসব ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
শওকত হোসতন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার জানা নেই এবং তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল; আদালতে মানহানির মামলা করেছেন, আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবে তা মেনে নেবেন। বাড়ি ভাঙার যে অভিযোগ আছে সেটিও তিনি অজানা বলে জানিয়েছেন।
মহানগর পুলিশ ঘটনার তথ্যভিত্তিক তদন্ত করছে এবং মামলার কাগজপত্র ও ভিডিও সম্পর্কিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশের সূত্রে জানা গেছে।
