‘ধ্বংস নয়, রোবটিক্স হোক সেবার হাতিয়ার’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শাখা পশ্চিমের উদ্যোগে ‘ইসমাইল আল-জাজারি রোবটিকস ফেস্ট–২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১-এর ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ শাকিল পারভেজের পিতা। শাখা সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে জ্ঞান ও বিজ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে ছাত্রশিবির ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার আলোকে গড়ে তোলার চেষ্টা করে—যেখানে একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের সহায়ক শৃঙ্খলা, সহযোগিতা, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও অনুপ্রেরণার প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। পাশাপাশি সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেও সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যেই অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীল চিন্তার চর্চা থাকলে একজন শিক্ষার্থী কেবল নিজের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের ভবিষ্যৎও বদলে দিতে পারে। রোবটিক্স ফেস্টের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে, উদ্ভাবনী চিন্তা ও দলগত দক্ষতা বাড়ায়। শিক্ষার্থীরা যেন বইয়ের বাইরে এসে বাস্তব সমস্যার সমাধান ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আগ্রহী হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
শাখা সেক্রেটারি মো. শান্ত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, কৃষিবিদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. আলী আফজাল এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন গুম থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমানও।
এ ছাড়া উৎসবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, বিজ্ঞান সম্পাদক ডা. রিফাত আব্দুল্লাহ এবং ডাকসু জিএস ও ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতি এসএম ফরহাদ।
আয়োজনে রাজধানীর ৪০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০০টি দল থেকে পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
