রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছে ঘাতক লিমন মিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সামনে সে এই স্বীকারোক্তি দেয়।
ঘটনার আগে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী (৪৪) সিলেটের জালালাবাদ থানায় লিমনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লিমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর লিমন প্রায়ই আর্থিক সহযোগিতা চাইত। এক পর্যায়ে তিনি সহযোগিতা না করলে লিমন হুমকি-ধমকি দেয়া শুরু করে। ৩ নভেম্বর লিমন তার মেয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল করে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়। এ কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি জিডি করেন, যার তদন্ত এখনো শুরু হয়নি।
হাসপাতালে সাংবাদিকদের সামনে লিমন দাবি করে, তাসমিন নাহার লুসীর সঙ্গে তার পাঁচ বছরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। লুসীর কারণে তাকে হয়রানি ও জেলে যেতে হয়েছে। লুসী ফোন না ধরলে সে ‘পাগল’ হয়ে যেত বলে জানায়। ঘটনার দিন লুসীর সঙ্গে দেখা করতে রাজশাহীর বাসায় আসে। সেখানে কথাবার্তার এক পর্যায়ে লুসীর ছেলে এসে তাকে আঘাত করলে সে পাল্টা আঘাত করে। এরপর কী ঘটেছে, তা আর বলতে না পারার দাবি করে লিমন।
রাজশাহীর তেরোখাদিয়া এলাকার একটি ভবনের পঞ্চম তলায় ওই ফ্ল্যাটে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভবনের দারোয়ান জানান, বিচারকের ভাই পরিচয়ে লিমনকে তিনি ঢুকতে দেন। কিছুক্ষণ পর গৃহকর্মী এসে জানায়, ফ্ল্যাটে বিচারকের স্ত্রী ও ছেলেকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। পরে ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতে সুমন মারা গেছে। বিচারকের স্ত্রীকে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল। লিমনের হাতেও আঘাত ছিল, তবে তা গুরুতর নয়।
ঘটনার পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান হাসপাতালে লিমনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানান। লিমনের পকেট থেকে উদ্ধার করা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে তাকে পেশায় চালক বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছে।
