চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত ‘বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ গণসমাবেশে যোগ দিতে আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে যাবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে মহাসচিবের উপস্থিতি সত্ত্বেও এ কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন না চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া এবং সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সকালে নিশ্চিত করেছেন যে, এই কর্মসূচি সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। তাদের অভিযোগ—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অশোভন। জেলা বিএনপি না জেনেই এমন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন করা হয়েছে, যা নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছে। তারা জানান, জেলা বিএনপির নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গণসমাবেশে না যাওয়ার। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।

পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আগে সকল উপজেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের সমাবেশের সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ হারুনুর রশীদ। তাকে সহযোগিতা করছেন চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা এবং সাবেক সাংসদ আমিনুল ইসলাম।
তবে জেলা বিএনপির নেতাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের মতে, মনোনয়ন নিয়ে আগের থেকেই কিছু নেতার সঙ্গে বিরোধ চলছিল, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সাংসদ আমিনুল ইসলামকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর সংসদে যাওয়া আমিনুল ইসলাম তৃণমূলের আস্থা ধরে রাখতে পারেননি—এ দাবি করে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার মশাল মিছিলও হয়েছে।
অন্যদিকে, অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা জানিয়েছেন—জেলা বিএনপির নেতাদের বক্তব্য মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তার দাবি, বিএনপির সব স্তরের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষ বাড়ছে। জেলা বিএনপি জানাচ্ছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন নেতা পদ্মা ইস্যুকে ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে আহ্বায়ক কমিটির বাইরে থাকা নেতারা বলছেন, আন্দোলনের বৃহৎ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সবাইকে এক হওয়া উচিত।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও সমাবেশ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।







