ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা ধুলটপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। পরিবার বলছে, বিএনপি কর্মী সোহেল শেখের মারধর ও গালিগালাজের পরই হার্টের রোগী শামসুল শেখ (৬৫) অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা যান। রোববার (১৬ নভেম্বর) নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি বেগম ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শামসুল শেখের বড় ছেলে রনি শেখের সঙ্গে বিদেশে পাঠানোর বিষয় নিয়ে নাজমুল হাসান নামের এক ব্যক্তির আত্মীয়দের টাকা লেনদেন হয়েছিল। বিদেশে নেওয়ার কথা বললেও তা সম্ভব না হওয়ায় নাজমুলের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ চলছিল। পরিবার দাবি করছে, যে টাকা তাদের কাছে পাওনা ছিল তা ফেরত দেয়া হলেও, বিএনপি কর্মী সোহেল শেখ ছয় মাস আগে শামসুলের কাছ থেকে জোর করে একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেন এবং নতুন করে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন।
নিহতের প্রথম স্ত্রী রিনা বেগম অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেলে নাজমুল, সোহেল শেখ, মনির পাটোয়ারী ও তুজাম শেখ তাদের বাড়িতে এসে গালিগালাজ করেন এবং সোহেল শামসুল শেখকে থাপ্পড় মারেন। হৃদরোগে ভুগছিলেন শামসুল শেখ, মারধরের পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং রোববার ভোরে তিনি মারা যান।
স্পেনে থাকা ছোট ছেলে রাকিব শেখ বলেন, “আমরা দুই ভাই বিদেশে থাকি, আর ওরা পরিবারকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছিল। ক্ষমতা দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে সই নিয়েছে, টাকা না দিয়ে উপায় ছিল না।”
চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত.ম. মাসুদ পারভেজ বলেন, টাকা লেনদেনের বিরোধ থাকলেও কারও বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ বা মারধর করা সম্পূর্ণ বেআইনি। পরিবার অভিযোগ করেছে, পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আলম জানান, অভিযোগ পেয়েছেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







