আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সোমবার ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
দুই ঘণ্টা দশ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়।
মামলার দুই প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক থাকা অবস্থায় রায় ঘোষণা করা হলো। তবে তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গত এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্তারিত সাক্ষ্য দেন। তার বক্তব্য ও ভূমিকা বিবেচনায় প্রসিকিউশন তার শাস্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেয়।
মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগগুলো হলো—
১) ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’।
২) আন্দোলনকারীদের দমন করতে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ।
৩) রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ।
৪) রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ।
৫) আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে আগুন দিয়ে হত্যার নির্দেশ।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ ঘটনাগুলো ছিল সুপরিকল্পিত, সমন্বিত এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘটিত। সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয় যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
রায় ঘোষণার সময় আদালত উল্লেখ করে, অভিযুক্তদের অবস্থান, ক্ষমতা ও দায়িত্ব বিবেচনায় তাদের দেওয়া নির্দেশ সরাসরি হত্যাকাণ্ড এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হয়েছে। এজন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
পলাতক অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনার সাজা সম্পর্কেও একই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী তাকে দেশে ফেরত আনা বা আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আটক করা হলে রায় কার্যকর করা হবে।
