বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তির অবকাঠামো সীমিত হলেও তরুণদের হাতে তৈরি উদ্ভাবন নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। তারই উজ্জ্বল উদাহরণ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম চৌধুরী। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা বাধা সত্ত্বেও তিনি তৈরি করেছেন একটি বোমা নিস্ক্রিয়করণ রোবট, যা একই সঙ্গে স্থল ও পানিতে কাজ করতে পারে।
চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা তানভীর ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। যন্ত্রপাতি খুলে ফেলা, সার্কিট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা— এসব নিয়েই তার শৈশব। বাবার নৌবাহিনীর অভিজ্ঞতা তাকে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ শিখিয়েছে, আর তুরস্কের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তাকে অনুপ্রাণিত করেছে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে কিছু করার জন্য।
তানভীরের বানানো রোবটটি সম্পূর্ণভাবে হাতে তৈরি। নিজস্ব লজিক গেট ডিজাইন ব্যবহার করে তিনি সার্কিট নির্মাণ করেছেন, কোনো আয়রন ছাড়া। ট্রানজিস্টর-ভিত্তিক উপাদান দিয়ে তৈরি এই লজিক সার্কিট রোবটকে স্থল ও পানিতে গতিশীল হতে সহায়তা করে। পানিতে প্রবেশ করলে রোবটের রাডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়। বিশেষভাবে ডিজাইন করা সার্কিট এক্সপ্লোসিভ ডিসপোজাল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। রোবটে যুক্ত রয়েছে একটি রোবোটিক আর্ম, যা বোমা ধরতে এবং সরাতে সক্ষম। একাধিক পাওয়ার সাপ্লাই ও স্বতন্ত্র সার্কিট ব্যবহার করা হয়েছে যাতে দুর্গম এলাকায়ও এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশে উন্নত ল্যাব, গবেষণা তহবিল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব তানভীরের পথকে কঠিন করেছিল। তবু তিনি প্রমাণ করেছেন— উদ্ভাবনের ইচ্ছে থাকলে সীমিত সম্পদও বড় সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলে ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে রোবটটিকে উভচরভাবে তৈরি করেছেন তিনি, যাতে সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঝুঁকি না নিয়ে দূর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
তানভীরের এই উদ্ভাবন দেখে পাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আওয়াল প্রশংসা করেছেন এবং প্রযুক্তিগত কাঠামো আরও উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই উদ্ভাবন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
তানভীর বলেন, তার লক্ষ্য দেশের মানুষের কাজে লাগবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা। সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এই রোবট ব্যবহার করতে পারে, তবেই তার স্বপ্ন পূরণ হবে। নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নেবে— তানভীরের এই উদ্ভাবন যেন সেই সম্ভাবনারই প্রতীক।
